খুলনাঞ্চলে জলাবদ্ধতা: খাল-নদী খননেও মিলছে না মুক্তি

খুলনাঞ্চলে জলাবদ্ধতা: খাল-নদী খননেও মিলছে না মুক্তি

বিভাগ: সংবাদ

খুলনাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা গত দুই বছরে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত বছর সরকারি বিভিন্ন সংস্থা কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে খাল ও নদী খনন, সেচ পাম্প স্থাপন এবং স্লুইসগেট সংস্কারসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান এখনও মেলেনি। কর্মসূচি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বলছে, চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রায় ৫০টি গ্রামের মানুষ প্রতি বছর ৮ মাসের মতো জলাবদ্ধতার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন। গত বছরও নদী ও খাল খনন, কচুরিপানা অপসারণ এবং পাম্প স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও কৃষিজমি, মাছ চাষ ও সবজি উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, বেশির ভাগ প্রকল্পের অর্থ নয়-ছয় হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই স্লুইস গেটের পলি অপসারণ করছে।

খুলনাঞ্চলের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা গত দুই বছরে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। ছবি: শেখ হেদায়েতুল্লাহ

এ বছরও কয়েকশ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় নদী ও খাল খনন, সেচ পাম্প স্থাপন এবং পানি নিষ্কাশনের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিলের ভেতরে খাল খননের চেয়ে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা বেশি জরুরি। তাদের মতে, নদীর তলদেশ ভরাট থাকায় বিলের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশিত হচ্ছে না। এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলেও মনে করছেন তারা। 

বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) খুলনাঞ্চলের উপপরিচালক মো. জামাল ফারুক জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে একাধিক খাল খনন করা হয়েছে এবং আরও খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিল ডাকাতিয়া, বিল কেদারিয়া, কপারিয়া ও শিঙ্গার বিলসহ ২৬টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য ৫৬টি সেচ পাম্প চালু রয়েছে। এসব পাম্পের মাধ্যমে বিলের পানি নদীতে অপসারণ করা হচ্ছে। 

জলাবদ্ধতার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়া অঞ্চলে। ছবি: শেখ হেদায়েতুল্লাহ

খুলনাঞ্চলে জলাবদ্ধতা মূলত ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়াকে ঘিরে। ইতোমধ্যে এ জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী ও খাল খননের পাশাপাশি শক্তিশালী পাম্প বসানো হয়েছে। আরও কিছু নদী খননের পর্যায়ে রয়েছে।

বি এম মোমিন উদ্দীন
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী
খুলনা-যশোর অঞ্চল, পানি উন্নয়ন বোর্ড

পানি উন্নয়ন বোর্ডের খুলনা-যশোর অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম মোমিন উদ্দীন বলেন, খুলনাঞ্চলে জলাবদ্ধতা মূলত ভবদহ ও বিল ডাকাতিয়াকে ঘিরে। ইতোমধ্যে এ জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী ও খাল খননের পাশাপাশি শক্তিশালী পাম্প বসানো হয়েছে। আরও কিছু নদী খননের পর্যায়ে রয়েছে। তিনি আরও জানান,এছাড়া সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচটি নদী খননের কাজ চলছে। এছাড়া প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবদহ ২১ ভেন্টের স্লুইসগেটসহ ১৮টি স্লুইস গেট সংস্কার করা হয়েছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, শুধু খাল খনন নয়, পরিকল্পিতভাবে নদীর নাব্যতা পুনরুদ্ধার এবং বিল থেকে পানি বের হওয়ার কার্যকর পথ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) জোয়ারাধার কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করছেন তারা।