নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার সস্তাপুর এলাকায় বায়ুদূষণের অপরাধে দুটি কারখানাকে আড়াই লাখ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে মেসার্স রহমত টেক্সটাইলস মিলস নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টাকা এবং এসকে ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলসকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ এইচ এম রাসেদ জানান, বায়ু দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা, ২০২২-এর ৮(ক) ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর ১৫(২) ধারা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান দুটিকে জরিমানা করা হয়।
কাঠ ও ঝুট পোড়ানোর অভিযোগ
পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. হুজ্জাতুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠান দুটি পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়াই কার্যক্রম চালাচ্ছিল। বয়লারে গ্যাস ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে কাঠ ও ঝুট পোড়ানো হচ্ছিল। এ জন্য বন অধিদপ্তরের অনুমতিপত্রও তাদের ছিল না বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, উন্মুক্তভাবে কালো ধোঁয়া ছাড়ার কারণে আশপাশের আবাসিক এলাকায় বায়ুদূষণ হচ্ছিল।
অভিযানে দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহ কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদিয়া আক্তার।
অভিযানে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বা সাবেক র্যাব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল সহযোগিতা করে।
পরিবেশগত প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি কারখানার বয়লারে কাঠ ও ঝুট পোড়ানো এবং কালো ধোঁয়া নির্গমনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে। পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, এতে সস্তাপুরের আবাসিক এলাকায় বায়ুদূষণ হচ্ছিল।
তবে এই দুই কারখানার নির্গমন থেকে স্থানীয় বায়ুমানের ওপর সুনির্দিষ্ট কী প্রভাব পড়েছে বা বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যে কী ধরনের প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে—এ বিষয়ে কোনো পরিমাপ বা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযান অব্যাহত রাখার প্রত্যয়
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ইউএনও এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ও আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে। পরিবেশের ক্ষতি হয়—এমন কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।