নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় ফাঁদ পেতে ৫০টি বক শিকার করে হত্যার ঘটনায় তিন পাখিশিকারিকে দুই মাস করে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ ছাড়া বকগুলো বস্তায় ভরে বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগে আরও দুজনকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের আয়েশ এলাকায় এ অভিযান ও দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিনজন হলেন—সিংড়া উপজেলার পাকুরিয়া গ্রামের জনাব আলী (৩৮), বিলপাকুরিয়া গ্রামের কাহার (১৯) ও একই গ্রামের লিটন (৩০)। তাদের প্রত্যেককে দুই মাসের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অর্থ অনাদায়ে তাদের আরও সাত দিনের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
বক জবাই করে বস্তায় ভরে বিক্রির কাজে সহযোগিতার অভিযোগে সিংড়া পৌরসভার পারসিংড়া বেদেপল্লির ভ্যানচালক আবু হানিফকে (৪০) সাত হাজার টাকা এবং বিলপাকুরিয়া গ্রামের হোসেন আলীকে (২১) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যদের তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকালে আয়েশ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ঘটনাস্থলে গিয়ে পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়।
চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, কয়েক দিন ধরে একটি চক্র চলনবিল থেকে পাখি শিকার করে ঘটনাস্থলেই জবাই করে বস্তায় ভরে সিংড়া পৌর শহরের পারসিংড়া বেদেপল্লিতে গোপনে বিক্রি করে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে ভ্যানচালক আবু হানিফের গতিবিধি অনুসরণ করে আয়েশ এলাকায় শিকারিদের কাছ থেকে জবাই করা বক ভ্যানে তোলার সময় তাদের আটক করা হয়।
তিনি বলেন, “বস্তায় ভরে গোপনে শহরের পারসিংড়া বেদেপল্লিতে পাখি বিক্রি করছিল একটি চক্র। আজ সকালে ওই চক্রের সদস্য ভ্যানচালক আবু হানিফের পিছু নিয়ে জবাই করা ৫০টি বক জব্দ করা হয়।”
অভিযানে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু, চলনবিল জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চলনবিল এলাকায় পাখি শিকার বন্ধে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষা কমিটির সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। কমিটির তথ্য অনুযায়ী, শীত মৌসুম সামনে রেখে চলনবিলে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আনাগোনা বাড়লে শিকারিরাও সক্রিয় হয়ে ওঠে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল রিফাতের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। পাখি শিকার বন্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।