বিজ্ঞাপন

ঢাকী নদীর ভাঙনে খুলনার দাকোপে প্লাবনের শঙ্কা

dhaki_river.jpg
খুলনার দাকোপের বটবুনিয়ায় ঢাকী নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ। ছবি: সংগৃহীত

খুলনার দাকোপ উপজেলায় ঢাকী নদীর বেড়িবাঁধের প্রায় ৪০–৫০ মিটার অংশ ধসে নদীতে বিলীন হয়েছে। গত ১১ অক্টোবর সকালে উপজেলার তিলডাঙা ইউনিয়নের বটবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাঙনস্থল দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে আশপাশের এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ঢাকী নদীর প্রবল জোয়ার ও স্রোতের চাপে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ৩১ নম্বর পোল্ডারের বটবুনিয়া বাজারের কাছে সরদারবাড়ি ও হরিসভা মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় বাঁধটি ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সকাল ৮টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বাঁধের একটি বড় অংশ নদীতে ধসে পড়ে। এর আগে ওই এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছিল।

বারবার ভাঙছে বাঁধ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরও একই এলাকায় বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছিল। এরপর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ উঁচু বাঁধ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু এক বছরের মধ্যে আবারও ভাঙন দেখা দেওয়ায় বাঁধের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধটি পরে ব্লক দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। গত কয়েক মাসে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান হয়নি।

তিলডাঙা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দীন গাজী বলেন, বাঁধ ভাঙার আগে সংস্কারের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছিল। সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ঝুঁকিতে ফসল ও মাছের ঘের

স্থানীয় বাসিন্দাদের আশঙ্কা, বাঁধটি দ্রুত মেরামত করা না গেলে বটবুনিয়া, কামিনীবাসিয়া ও তিলডাঙা গ্রামের প্রায় ১২ হাজার মানুষ ঝুঁকিতে পড়বে। একই সঙ্গে আশপাশের আমন ধানের জমি, সবজিখেত, পুকুর ও মাছের ঘের লবণাক্ত পানিতে প্লাবিত হতে পারে।

তারা বলছেন, উপকূলীয় এলাকায় নদীর লবণাক্ত পানি কৃষিজমিতে ঢুকলে চলতি মৌসুমের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মাটির লবণাক্ততা বেড়ে পরবর্তী মৌসুমের উৎপাদনেও প্রভাব পড়তে পারে। তবে এই ভাঙনে কতটুকু জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।

দাকোপের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙন ও বেড়িবাঁধের দুর্বলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার সংস্কার করা হলেও অনেক স্থানে স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। ফলে জোয়ারের পানি বাড়লে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও মাছের ঘের নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।

মেরামতের কাজ চলছে

ভাঙনের পর পাউবোর তত্ত্বাবধানে বালু ও জিও ব্যাগ ফেলে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সাময়িকভাবে আটকানোর কাজ শুরু হয়েছে। পরবর্তী জোয়ারের আগে পানি প্রবেশ ঠেকাতে বিকল্প বাঁধ তৈরির চেষ্টা চলছে।

খুলনা পাউবো-২ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাশিদুর রহমান জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বালু ও জিও ব্যাগ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের কাজ চলছে। দাকোপের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো চিহ্নিত করে স্থায়ী সংস্কারের জন্য বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে।

তবে বাঁধটির স্থায়ী সংস্কার কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ও টেকসই ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। 

(প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য দিয়ে তৈরি)