বিজ্ঞাপন

এডিসের লার্ভা শনাক্তে জরিপ শুরু ডিএসসিসির

mosquito.jpg
এডিস মশার প্রতীকী ছবি: ম্যাগনিফিক

ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং এডিস মশার বংশবৃদ্ধির উৎস চিহ্নিত করতে ১২ দিনব্যাপী বর্ষাকালীন লার্ভা জরিপ শুরু করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) শুরু হওয়া এই জরিপ চলবে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর গুলিস্তানের নগর ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে জরিপ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম।

জরিপের কর্মপদ্ধতি ও ডিজিটাল নজরদারি

দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১০টি অঞ্চলে মশার ঘনত্ব ও প্রজননক্ষেত্রের ধরন নির্ধারণে সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ডিএসসিসি।

নমুনা সংগ্রহ: ডিএসসিসির ৭৫টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে ৩০টি করে ২ হাজার ২৫০টি বাড়ি ও স্থাপনা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের দল: ডিএসসিসি এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) ৭২ জন প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাঠকর্মী তথ্য সংগ্রহ করছেন।

ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ: তথ্যের সঠিকতা ও তাৎক্ষণিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে ‘কোবো টুলবক্স’ নামে ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা হচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণ ও ঝুঁকিমাত্রা নির্ধারণ

মাঠপর্যায় থেকে সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এডিস মশার প্রজনন ও ঘনত্ব নির্ধারণে চারটি বৈজ্ঞানিক সূচক ব্যবহার করা হবে। এগুলো হলো—ব্রেটু ইনডেক্স (বিআই), হাউস ইনডেক্স (এইচআই), কনটেইনার ইনডেক্স (সিআই) এবং পিউপা ইনডেক্স (পিআই)।

ব্রেটু ইনডেক্সের ভিত্তিতে এলাকাগুলোকে তিনটি ঝুঁকি শ্রেণিতে ভাগ করা হবে—

১. উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ব্রেটু ইনডেক্স ২০ বা তার বেশি হলে।

২. মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ব্রেটু ইনডেক্স ১০ থেকে ১৯-এর মধ্যে হলে।

৩. সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা: ব্রেটু ইনডেক্স ১০-এর নিচে হলে।

জরিপের চূড়ান্ত ফলাফলে যেসব স্থান ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত হবে, সেখানে নিবিড় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, লার্ভিসাইড প্রয়োগ এবং বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হবে।

নগর অবকাঠামো ও প্রাক্-বর্ষা জরিপের চিত্র

নগরায়ণ, অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ এবং বাসাবাড়ির পরিবেশ এডিস মশার বংশবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। এর আগে পরিচালিত প্রাক্-বর্ষা জরিপে ডিএসসিসির ৬৩টি ওয়ার্ডেই লার্ভার ঘনত্ব নির্ধারিত সূচকের চেয়ে বেশি ছিল। এর মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ডকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করা হয়। এর ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সেখানে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম পরিচালনা করে সংস্থাটি।

আগের জরিপগুলোর ফল পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বাসাবাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি এডিস মশার লার্ভা জন্মানোর প্রধান প্রজননস্থল হিসেবে কাজ করছে।

ডিএসসিসির ভাষ্য ও নগরবাসীর প্রতি আহ্বান

জরিপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তথ্যভিত্তিক ও বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, “ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননস্থল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। এই জরিপের মাধ্যমে ডিএসসিসির বর্তমান পরিস্থিতির একটি নির্ভুল চিত্র পাওয়া যাবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নগরবাসীর প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রাক্-বর্ষা জরিপে বাসাবাড়ি ও আঙিনায় জমে থাকা পানিকে এডিস মশার প্রধান প্রজননক্ষেত্র হিসেবে পাওয়া গেছে। তাই ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন ও আশপাশের স্থান জমে থাকা পানি থেকে মুক্ত রাখতে নগরবাসীকে সচেতন হতে হবে।”

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, সচিব মো. মশিউর রহমান খান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদার এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানসহ করপোরেশনের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।