বিজ্ঞাপন

মাউন্ট ব্রোমোতে দাবানল নেভাতে গিয়ে গেল ৪ প্রাণ

fires_burning_in_Bromo_Tengger_Semeru_National_Park_on_September_11-2026_ANTARA.jpg
ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানের বুকিত পেঙোল এলাকায় দাবানলে পুড়ছে শুষ্ক গাছপালা ও বনাঞ্চল, ছবিটি ১১ সেপ্টেম্বর তোলা। সৌজন্যে: আন্তারা নিউজ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের মাউন্ট ব্রোমো এলাকায় দাবানল নেভাতে গিয়ে চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার সময় বাতাসের গতিপথ দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় অগ্নিনির্বাপণ দলের ছয় সদস্য আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলে মারা যান। হাসপাতালে নেওয়ার পথে চতুর্থজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে প্রোবোলিঙ্গো জেলার প্রধান মুহাম্মদ হারিস সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ব্রোমো টেঙ্গার সেমেরু জাতীয় উদ্যানে প্রায় প্রতিবছরই দাবানল দেখা দেয়। তবে আগের বছরগুলোতে আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা আন্তারার প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত চারজনের মধ্যে তিনজন জাতীয় উদ্যানের কর্মকর্তা—সুকারিস, বিষ্ণু ইউদা প্রতামা ও হেন্দ্রা রনি। অন্যজন আর্টোটেল ব্রোমো হোটেলের কর্মী সেফ্রিয়েল আরদিয়ানসিয়া।

বাতাসের গতিপথ পরিবর্তনে বিপদ

আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে মানসম্মত পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) অনুসরণ করে প্রথমে ১২ জনের একটি দল কাজ শুরু করে। কিন্তু শুষ্ক উদ্ভিদে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে দলটি ভাগ হয়ে যায়।

এ সময় বাতাসের গতি ও গতিপথ দ্রুত পরিবর্তিত হলে ছয়জন আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। চতুর্থজনকে উদ্ধার করে টোঙ্গাস জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।

গুরুতর দগ্ধ দুজনের নাম মুনাউই ও সুরাজি। তাদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুরাবায়ার ডা. সোয়েতোমো জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হারিস জানান, আহত দুজনের চিকিৎসার ব্যয় জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে বহন করবে প্রোবোলিঙ্গো জেলা প্রশাসন।

এল নিনো ও দীর্ঘায়িত শুষ্ক মৌসুম

ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিষয়ক সংস্থার (বিএমকেজি) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এল নিনো ও ভারত মহাসাগরীয় ডাইপোলের (আইওডি) প্রভাবে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত কমার আশঙ্কা রয়েছে। এর ফলে ২০২৬-২৭ সালের বর্ষা মৌসুম স্বাভাবিকের চেয়ে দেরিতে শুরু হতে পারে।

বিএমকেজির পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের ৬১ শতাংশের বেশি মৌসুমি অঞ্চলে বর্ষা শুরু হতে স্বাভাবিকের চেয়ে দেরি হতে পারে। দীর্ঘায়িত শুষ্ক আবহাওয়া বন ও ভূমিতে আগুনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

মাউন্ট ব্রোমোর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে শুষ্ক উদ্ভিদ ও বাতাসের পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তারার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

প্রোবোলিঙ্গো জেলার প্রধান মুহাম্মদ হারিস নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় উদ্যানটিতে প্রায় প্রতিবছর দাবানল হলেও আগের বছরগুলোতে আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

অগ্নিনির্বাপকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি দেখতে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার প্রধানও ব্রোমো এলাকা পরিদর্শন করেছেন বলে হারিস জানান।

দাবানলের এ ঘটনা দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আগুন মোকাবিলায় অগ্নিনির্বাপকদের নিরাপত্তা, জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা এবং দীর্ঘায়িত শুষ্ক মৌসুমে প্রস্তুতি জোরদারের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে।