নেপালের মধ্যাঞ্চলীয় গোরখা জেলায় বুধি গণ্ডকি নদীতে আকস্মিক বন্যায় আনুমানিক ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একাধিক সেতু ও একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণশিবির। এ ঘটনায় পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকা থেকে ৪৯ জনকে উদ্ধার করেছে নেপাল সেনাবাহিনী।
রবিবার (১১ অক্টোবর) ভোরে চুমনুব্রি ও ধারচে পৌরসভা এলাকায় এ বন্যা দেখা দেয়। নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তীরবর্তী জনবসতিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে নদীর ভাটির দিকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
নেপালি সংবাদমাধ্যম ‘দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট’ জানিয়েছে, চুমনুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার জগৎ বাগার, সাল্লেরি ও ঘাট্টিখোলা এলাকায় ৩৫ থেকে ৪০টি বাড়ি ভেসে গেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিবিসি জানিয়েছে, জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে বন্যায় প্রায় এক ডজন বাড়ি ভেসে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি।
সেতু ও জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত
বন্যার পানিতে কয়েকটি ঝুলন্ত সেতু ও যান চলাচলের উপযোগী সেতু ভেসে গেছে। গোরখা ও ধাদিং জেলার মধ্যে যোগাযোগের একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি শিবির ও কিছু সরঞ্জাম পানিতে ভেসে গেছে।
নদীর পানি কয়েকটি বসতিতে ঢুকে পড়েছে। আরও কিছু বাড়িঘর ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধি গণ্ডকি নদীর একটি স্থানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানির উচ্চতা প্রায় ২ মিটার থেকে বেড়ে ৮ দশমিক ৫ মিটারের কাছাকাছি পৌঁছায়। বন্যার তোড়ে ওই এলাকার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলপ্রবাহ পরিমাপের কেন্দ্রও ভেসে গেছে। এতে সেখান থেকে পানিপ্রবাহের তথ্য সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন নেপাল সরকারের সঙ্গে কাজ করা আবহাওয়াবিদ বিনোদ পরাজুলি।
বন্যার কারণ নিয়ে ভিন্ন তথ্য
আকস্মিক বন্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গোরখার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্র কুমার মিশ্রের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, চুমনুব্রি এলাকার উজানে ভূমিধস হয়েছিল।
স্থানীয় প্রশাসনের ধারণা, ভূমিধসে নদী বা এর কোনো উপনদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে পানি জমেছিল। পরে সেই বাধা ভেঙে পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে আসায় বন্যার সৃষ্টি হতে পারে। তবে বিবিসির প্রতিবেদনে উজানে বরফধসের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান ও সতর্কতা
বন্যার পর দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের সদস্যরা আকাশপথ ও স্থলপথে অভিযান চালিয়ে ৪৯ জনকে উদ্ধার করেছেন। পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছে।
নদীর পানি ওঠানামা করায় বুধি গণ্ডকির তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ভাটির দিকে ত্রিশূলী নদী ও এর সঙ্গে যুক্ত নদীব্যবস্থার আশপাশের এলাকাগুলোতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বুধি গণ্ডকি নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। গত আগস্টে এই নদীব্যবস্থার আরেকটি উপনদীতে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক প্রাণহানি ঘটে। সেই দুর্যোগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই নতুন এই বন্যা দেশটির দুর্গম পাহাড়ি জনপদে উদ্বেগ তৈরি করেছে।