ব্রহ্মপুত্রের তীব্র ভাঙনে গত এক সপ্তাহে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বিলীন হয়েছে ১৭টি পরিবারের বসতভিটা। বসতবাড়ির পাশাপাশি উপজেলার চর শৌলমারী ইউনিয়নের সুখেরবাতি ও খেদাইমারী গ্রামে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে আমন ধান, ভুট্টা ও শাকসবজির খেতও। ভাঙনের শঙ্কায় আগেভাগেই কাঁচা-পাকা ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ভাঙনের তীব্রতায় নদীতীরবর্তী বসতি ও আবাদি জমি রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বসতভিটা হারানো পরিবারগুলোর কেউ খোলা আকাশের নিচে, কেউ অন্যের জমিতে আশ্রয় নিয়েছে। দ্রুত ও স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে তারা।
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আনছার আলী তুহিন জানান, গত এক সপ্তাহে সুখেরবাতি এলাকায় সাতটি এবং পাশের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খেদাইমারী গ্রামে ১০টি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া চরে নতুন করে বাড়ি করা আরও দুই ব্যক্তির বসতভিটা বিলীন হয়েছে।
ফসল হারিয়ে দিশেহারা কৃষকেরা
আমন ধান ঘরে তোলার আগেই নদীভাঙনে জমি হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। কোথাও ধান পাকতে শুরু করেছে, কোথাও এখনো কাঁচা। ভাঙন থেকে জমি রক্ষার উপায় না থাকায় কৃষকেরা ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত ধান কেটে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। গত রবিবার (১৮ অক্টোবর) সুখেরবাতি চরে কৃষকদের কাঁচা ধান কাটার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ইউপি সদস্য আনছার আলী তুহিনের তথ্য অনুযায়ী, এলাকার কৃষক ইউনুছ মোল্লার দেড় বিঘা আমন ধানের জমির পুরোটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ছবুর প্রামাণিকের চার বিঘা জমির মধ্যে এক বিঘা আমন ধানের খেত নদীতে চলে গেছে। একই এলাকার জমসের আলী বসতভিটার পাশাপাশি তিন বিঘা ধানি জমিও হারিয়েছেন।
জমসের আলী জানান, বসতভিটা ও জমি হারানোর পর ধারদেনা করে অন্যের জমিতে ঘর তুলেছেন। এখন পর্যন্ত সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ তার।
জিও ব্যাগেও থামছে না ভাঙন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ছয় থেকে সাত মাস আগে ভাঙন রোধে নদীতীরে জিও ব্যাগ ফেলেছিল। তবে যথাযথ তদারকি ও স্থায়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থার অভাবে সেগুলোর অনেকগুলো নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে নদীতীর আবারও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে।
চর শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এইচ এম সাইদুর রহমান বলেন, সুখেরবাতি, খেদাইমারী ও সোনাপুর এলাকায় নদীভাঙন মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে সিসি ব্লকের ব্যবস্থা না থাকায় শুধু জিও ব্যাগ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। জিও ব্যাগ নদীতে চলে যাওয়ায় আবাদি জমি, গাছপালা ও বাড়িঘর ভাঙনের শিকার হচ্ছে।
ভাঙনকবলিত পরিবারগুলোর সরকারি আর্থিক সহায়তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, জরুরি কাজের জন্য বর্তমানে কোনো বাজেট বরাদ্দ নেই। ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। স্থায়ীভাবে ভাঙন ঠেকাতে একটি প্রকল্প প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। সেটি বাস্তবায়নের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করছে।
জরুরি বরাদ্দ না থাকায় আপাতত ভাঙন প্রতিরোধের কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তিনি।
(প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য দিয়ে তৈরি)