বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে শেরপুরের সদর ও নকলা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে পাখি শিকারের কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি বক উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় পাখি ধরার ছয়টি বিশেষ ফাঁদও (হালা) উদ্ধার করা হয়। পরে বকগুলোকে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৬টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এ অভিযান চালায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। শেরপুর বার্ড ক্লাব এবং প্রকৃতি ও পরিবেশবাদী সংগঠন সেভ হিউম্যানিটি, ইন্টারাপ্টেড নেচার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট (শাইন) এ অভিযানে সহযোগিতা করে।
শেরপুর সদরের পাকুরিয়া ও কামারিয়া এবং নকলা উপজেলার বানেশ্বর্দী ইউনিয়নে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারিরা পালিয়ে যান। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে ঘটনাস্থলে পাখি শিকার বন্ধ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে লিফলেট ও স্টিকার বিতরণ করা হয়।
ওই অভিযান পরিচালনা করেন শেরপুরের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার এবং ওয়াইল্ডলাইফ রেঞ্জার মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন। এ সময় শেরপুর বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং শাইন-এর নির্বাহী পরিচালক মুগনিউর রহমান মনি উপস্থিত ছিলেন।
উদ্ধার করা বকগুলো অন্য পাখি শিকারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। উদ্ধারের পর সেগুলোকে নিরাপদে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
মুগনিউর রহমান মনি বলেন, ‘এই সময় থেকে আগামী এক মাস হালা দিয়ে বক শিকারে শিকারীরা খুব তৎপর থাকে। আমরা পাখি শিকার বন্ধে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের সাথে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি, সচেতনতা বৃদ্ধিতেও কাজ করছি। সাথে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনও সহযোগিতা করছে। তবে সীমাবদ্ধতার কারণে এসব অভিযান তুলনামূলক কমই হচ্ছে। এ সময়টায় অপরাধীদের ধরে উপযুক্ত সাজা দেওয়া গেলে শিকার অনেকটাই কমবে। জেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে হবে।’
বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা সুমন সরকার জানান, দেশীয় পাখি ও অতিথি পাখি রক্ষায় এরকম অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে পাখি শিকার থেকে বিরত থাকতে এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতি আহ্বান জানান অভিযানসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
(প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য দিয়ে তৈরি)