রাজধানীর উপকণ্ঠে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের বনগ্রাম এলাকায় অনুমোদন ছাড়াই আবাসন প্রকল্প পরিচালনা এবং বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) কৃষিজমি ও জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত জায়গা ভরাটের অভিযোগে ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালী’ প্রকল্পে অভিযান চালিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। অভিযানে প্রকল্পের একটি দোতলা সাইট অফিস গুঁড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ড্রেজার পাইপ ও সাইনবোর্ড ভেঙে দেওয়া হয়েছে। একটি বিদ্যুৎ মিটারও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজউক।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজউকের নগর-পরিকল্পনা শাখার তত্ত্বাবধানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ অভিযান পরিচালনা করে।
রাজউকের ভাষ্য, ড্যাপে কৃষিজমি ও জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত জায়গা বালু দিয়ে ভরাট করে অনুমোদন ছাড়াই আবাসন প্রকল্পটির কার্যক্রম চালানোর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়।
সাইট অফিস, ড্রেজার পাইপ ও সাইনবোর্ড অপসারণ
অভিযানে ‘ঢাকা ওয়েস্টার্ন ভ্যালী’ প্রকল্পের ভেতরে থাকা দোতলা একটি সাইট অফিস ভেঙে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন সাইনবোর্ড ও ড্রেজার পাইপও অপসারণ করা হয়। প্রকল্পটির একটি বিদ্যুৎ মিটার জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজউক।
রাজউকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সবুজ হাসান বলেন, কৃষি ও নিচু জমি বালু দিয়ে ভরাট এবং বিভ্রান্তিকর সাইনবোর্ড টাঙিয়ে জমি বিক্রির নামে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগও ছিল।
রাজউকের ওই কর্মকর্তা জানান, অভিযানের মাধ্যমে প্রকল্পটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। রাজউকের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
পাশের দুই প্রকল্পের বিলবোর্ড উচ্ছেদ
অভিযানের সময় প্রকল্পটির পাশে বিধিবহির্ভূতভাবে স্থাপিত ‘লেক আইল্যান্ড’ ও ‘সাউথ ইস্ট হাউজিং’ নামে দুটি আবাসন প্রকল্পের বিলবোর্ডও উচ্ছেদ করা হয় বলে রাজউক জানিয়েছে।
অভিযানে রাজউকের নগর-পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পল্লী বিদ্যুতের প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষিজমি ও জলাশয় রক্ষায় রাজউকের অবস্থান
রাজউকের তথ্য অনুযায়ী, ড্যাপে কৃষিজমি ও জলাশয় হিসেবে চিহ্নিত জায়গায় বালু ফেলে আবাসন প্রকল্পের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
রাজউক বলেছে, বেসরকারি আবাসিক ভূমির উন্নয়ন বিধিমালা, রিয়েল এস্টেট উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন এবং প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন অমান্য করে পরিচালিত আবাসন প্রকল্পগুলোর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ছাড়া অনুমোদনহীন বা অবৈধ আবাসন প্রকল্পে জমি বা প্লট কেনা কিংবা বুকিং দেওয়া থেকে সাধারণ মানুষকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে রাজউক।