বিজ্ঞাপন

নেপালের কুলেখানি জলাধারে পানি বাড়ছে, বাগমতীতে বন্যার আশঙ্কা

Kulekhani-I_Hydropower_Project_of_the_Nepal_Electricity_Authority.jpg
কুলেখানি জলাধারে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ছবি: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট

নেপালের মাকওয়ানপুর জেলার কুলেখানি (ইন্দ্রসরোবর) জলাধারে পানির স্তর ক্রমাগত বাড়ছে। এ অবস্থায় জলাধার থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হলে বাগমতী নদীতে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। এ আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেছে রাউতহাট জেলা প্রশাসন।

জলাধারের পানির স্তর বাড়তে থাকায় বাঁধের প্রধান গেট খুলে দিতে হতে পারে। এতে ভাটিতে, বিশেষ করে সিসনেরী খোলা ও বাগমতী নদীতে পানির প্রবাহ আকস্মিকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে নদীতীরবর্তী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির কুলেখানি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প শনিবার (৩১ অক্টোবর) জলাধারে পানির স্তর বৃদ্ধির কারণে প্রথম সতর্কতা জারি করে।

রাউতহাটের সহকারী প্রধান জেলা কর্মকর্তা হেমরাজ ফুয়ালের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেল নাগাদ কুলেখানি জলাধারে পানির স্তর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১ হাজার ৫২৮ দশমিক ১৫ মিটারে পৌঁছায়। সন্ধ্যায় তা ১ হাজার ৫২৯ মিটারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

ফুয়াল জানান, জলাধারের পানির স্তর ১ হাজার ৫২৮ দশমিক ৫০ মিটারে পৌঁছালে প্রথম সতর্কসংকেত হিসেবে সাইরেন বাজানো এবং এসএমএস পাঠানোর কথা জানিয়েছে কুলেখানি-১ প্রকল্প।

তিনি বলেন, ‘পানির স্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় কর্তৃপক্ষকে বাঁধের প্রধান গেট খুলে দিতে হতে পারে। এতে ভাটিতে, বিশেষ করে সিসনেরী খোলা ও বাগমতী নদীতে পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে বলে আমাদের জানানো হয়েছে। নদীতীরবর্তী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।’

সিসনেরী খোলা ও বাগমতী নদীর তীরবর্তী এলাকায় রাতে চলাচল এড়িয়ে চলারও পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। একই সঙ্গে নদীর কাছে গিয়ে মাছ ধরা, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ, গবাদিপশু চরানোসহ অন্যান্য কাজ থেকে বিরত থাকতে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণবের’ প্রভাবে টানা তিন দিন বৃষ্টির পর এসব সতর্কতা জারি করা হয়। কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কুলেখানি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের জলাধারে পানির স্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

মাকওয়ানপুর জেলা প্রশাসন কার্যালয়ও জানিয়েছে, পানির স্তর বাড়তে থাকায় জলাধারের নির্গমন গেট খুলে দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

মাকওয়ানপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা লক্ষ্মী প্রসাদ পৌডেল বলেন, কুলেখানি জলাধার থেকে পানি ছেড়ে দেওয়া হলে বাগমতী নদীতে পানির প্রবাহ ও স্তর বেড়ে যেতে পারে। এতে রাউতহাট জেলার নদীতীরবর্তী জনবসতিগুলো ঝুঁকির মুখে পড়বে।

তিনি বলেন, ‘বন্যা ও প্লাবনের আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলেছি। তাদের নদী থেকে দূরে থাকতে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

তথ্যসূত্র: দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট