বিজ্ঞাপন

নভেম্বর-জানুয়ারিতে ৪–৬টি শৈত্যপ্রবাহ, ২–৩টি হতে পারে তীব্র

শীতের সকালে কুয়াশায় ঢাকা বাংলাদেশের গ্রামীণ জনপদ
শীতের সকালে কুয়াশায় ঢেকে যায় দেশের বিভিন্ন এলাকা। ফাইল ছবি

চলতি নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত তিন মাসে দেশে চার থেকে ছয়টি মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে দুই থেকে তিনটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নিতে পারে। এ সময় দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়ারও পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রবিবার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নভেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত তিন মাসের দীর্ঘমেয়াদি আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা নির্ধারণ হয় যেভাবে

মৃদু শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৮-১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস

মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৬-৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ: তাপমাত্রা ৪-৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস

তথ্যসূত্র: আবহাওয়া অধিদপ্তর

শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা নির্ধারণ হয় যেভাবে

আবহাওয়া অধিদপ্তরের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, কোনো এলাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে নামলে তা মাঝারি এবং ৪ থেকে ৬ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়।

পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। শেষরাত থেকে সকাল পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও এবং নদ-নদী অববাহিকায় মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসতে পারে। এতে শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে।

তিন মাসের সামগ্রিক পূর্বাভাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে চারটি লঘুচাপ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে এক থেকে দুটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে। এ সময়ে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটির সভায় অক্টোবর মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতিও পর্যালোচনা করা হয়। এতে দেখা যায়, গত অক্টোবরে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৬৮ শতাংশ কম বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ওই মাসে বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়, যার মধ্যে একটি ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এ রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড়টি ২৮ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আবহাওয়া উপাত্ত, জলবায়ু মডেল, ঊর্ধ্বাকাশের আবহাওয়ার বিন্যাস এবং দেশি-বিদেশি আবহাওয়া সংস্থার পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে নভেম্বর ২০২৬ থেকে জানুয়ারি ২০২৭ সময়ের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস তৈরি করা হয়েছে।