বিজ্ঞাপন

আইসাইয়াস: ঝড়-বৃষ্টির মধ্যেও যুক্তরাজ্যে গরমের আভাস

isaias-uk-storm-rain-warm-weather.jpg
যুক্তরাজ্যের উপকূলে পাথরের ওপর আছড়ে পড়ছে বড় ঢেউ। ছবি: বিবিসি

হ্যারিকেন আইসাইয়াসের অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি নিম্নচাপের প্রভাবে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশটির অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বাড়ার পূর্বাভাসও রয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) স্কটল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কিছু এলাকায় ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় হলুদ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর মেট অফিস। এসব এলাকায় দমকা হাওয়ার গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ মাইল বা প্রায় ১১৩ কিলোমিটার হতে পারে।

স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের কিছু অংশে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। তবে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। এসব অঞ্চলে রোদও দেখা যেতে পারে।

নিম্নচাপের কেন্দ্র এবং এর সবচেয়ে তীব্র প্রভাব যুক্তরাজ্যের উপকূল থেকে কয়েক শ মাইল দূরে থাকবে। ফলে দেশটি ঝড়ের সবচেয়ে শক্তিশালী অংশের প্রভাব থেকে অনেকটাই রক্ষা পাবে।

হ্যারিকেনের অবশিষ্টাংশ থেকে নতুন নিম্নচাপ

হ্যারিকেন আইসাইয়াস ছিল এ মৌসুমের প্রথম আটলান্টিক হ্যারিকেন। গত শুক্রবার এটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হানে। এর প্রভাবে ফ্লোরিডা ও আলাবামাসহ দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে প্রাণহানি, ব্যাপক বিদ্যুৎবিভ্রাট ও ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে হ্যারিকেনটি দুর্বল হয়ে পড়ে।

এরপর হ্যারিকেনটির অবশিষ্টাংশ আটলান্টিক মহাসাগরে পৌঁছালে শক্তিশালী জেট স্ট্রিমের প্রভাবে নতুন একটি গভীর নিম্নচাপ তৈরি হয়। আবহাওয়াবিদদের ভাষায়, এটি ‘এক্সপ্লোসিভ সাইক্লোজেনেসিস’ বা দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের ব্যবস্থাকে ‘ওয়েদার বোম’ও বলা হয়।

জেট স্ট্রিম ঝড়টির কেন্দ্রকে যুক্তরাজ্যের উপকূল থেকে দূরে, আইসল্যান্ডের কাছ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেখানে তুষারঝড়ের আশঙ্কা রয়েছে। আইসল্যান্ড ও ফারো দ্বীপপুঞ্জের মধ্যবর্তী সমুদ্র এলাকায় দমকা হাওয়া ঘণ্টায় ১১০ মাইল বা প্রায় ১৭৭ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের কাছাকাছি এলাকায় এত তীব্র বাতাসের আশঙ্কা নেই।

স্কটল্যান্ডে ঝোড়ো হাওয়ার সতর্কতা

মেট অফিসের হলুদ সতর্কতা বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময়ে রেল, বিমান ও ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটতে পারে। সড়ক ও সেতুতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে উঁচু যানবাহনের ক্ষেত্রে। কোথাও কোথাও সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটও হতে পারে।

সতর্কতাধীন এলাকায় সাধারণভাবে ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। দিনের মধ্যভাগে উন্মুক্ত উপকূল ও পাহাড়ি এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৭০ মাইল পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

সতর্কতার আওতার বাইরে শেটল্যান্ডেও ঘণ্টায় ৫০ মাইল বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে। এ ছাড়া স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, উত্তর ইংল্যান্ড ও উত্তর-পশ্চিম ওয়েলসের অন্যান্য এলাকায় ঘণ্টায় ৪০ মাইল বেগে বাতাস প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দিনের শুরুতে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকলেও শেষ দিকে স্কটল্যান্ড ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের অনেক এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে বৃষ্টির তীব্রতা বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ড ও উত্তর ওয়েলসের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে ভোরের কুয়াশা কেটে গেলে এসব অঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় রোদেলা আবহাওয়া থাকবে।

তাপমাত্রা বাড়বে, সপ্তাহান্তে ফিরবে শীতল আবহাওয়া

গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উষ্ণ বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় যুক্তরাজ্যের অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা বাড়তে পারে। বুধবার বিভিন্ন অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। দক্ষিণ ইংল্যান্ডের কিছু এলাকায় তা ২০ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

এর ফলে অধিকাংশ এলাকায় তাপমাত্রা মধ্য-অক্টোবরের স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ২ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকতে পারে। বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অনেক এলাকায় এই উষ্ণতা বজায় থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। ইস্ট অ্যাংলিয়ায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।

তবে একটি আবহাওয়া বলয় ধীরে ধীরে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে স্কটল্যান্ড, উত্তর আয়ারল্যান্ড, উত্তর ইংল্যান্ড ও উত্তর ওয়েলসে বৃষ্টি নিয়ে আসবে। এর পেছনে অপেক্ষাকৃত শীতল বাতাস প্রবেশ করায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে।

শুক্রবার থেকে সপ্তাহান্ত পর্যন্ত শীতল ও পরে শুষ্ক আবহাওয়া ধীরে ধীরে যুক্তরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাপমাত্রা মৌসুমের স্বাভাবিক মাত্রার কাছাকাছি নেমে আসবে। পূর্ব উপকূলের কিছু এলাকায় জোরালো বাতাসের কারণে ঠান্ডার অনুভূতি বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও রাতে ফ্রস্ট বা ভূপৃষ্ঠে বরফ জমতে পারে।

আবহাওয়ার কম্পিউটার মডেলগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এরপর যুক্তরাজ্যের কাছাকাছি উচ্চচাপ বলয় অবস্থান নিতে পারে। এতে আটলান্টিক থেকে আসা নিম্নচাপ ব্যবস্থাগুলো আপাতত দূরে থাকতে পারে এবং দেশের অনেক এলাকায় দীর্ঘ সময় শুষ্ক আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি