বিজ্ঞাপন

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি তহবিল থেকে প্রথম সহায়তা পেতে যাচ্ছে নেপাল

Nepal_floods_hit_vulnerable_communities_as_UNDP_estimates_2.2_million_tonnes_of_debris.jpg
গত ২৬ আগস্ট আকস্মিক বন্যা ও পানির প্রবল স্রোতে নেপালের ভোতে কোশি নদী অববাহিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ছবি: ইউএনডিপির সৌজন্যে

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় গঠিত জাতিসংঘের তহবিল থেকে প্রথমবারের মতো সহায়তা পেতে যাচ্ছে নেপাল। গত ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা তহবিলের (ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ—এফআরএলডি) পরিচালনা পর্ষদ দেশটির জন্য ২ কোটি ১৬ লাখ ডলার সাময়িকভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ বিষয়টি তহবিলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। গত আগস্টে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে এই অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত মানে চূড়ান্ত অর্থ ছাড় নয়। তহবিলের নিয়ম অনুযায়ী, অর্থায়নের জন্য নেপালকে প্রস্তাব জমা দিতে হবে এবং পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।

গত ২৬ আগস্ট চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় বরফ ও পাথরের ধস থেকে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও পানির প্রবল স্রোতে নেপালের ভোতে কোশি নদী অববাহিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এতে ঘরবাড়ি, বিদ্যুৎ প্রকল্প, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) গত ১ সেপ্টেম্বর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দুর্যোগের প্রাথমিক প্রভাব তুলে ধরে। অন্যদিকে, ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষের নিখোঁজ থাকার কথা বলা হয়েছে। কমপক্ষে ১৫ হাজার পরিবারের ৬০ হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনটিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

নেপালের অবকাঠামো ও অর্থনীতিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ২৭০ কোটি ডলার বলে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ। সে হিসাবে তহবিল থেকে সম্ভাব্য ২ কোটি ডলারের সহায়তা ক্ষয়ক্ষতির তুলনায় খুবই সামান্য।

কীভাবে কাজ করবে তহবিল

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৩ সালে এফআরএলডি প্রতিষ্ঠা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জলবায়ু পরিবর্তনে কম দায়ী অথচ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো এ ধরনের আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়ে আসছে।

এফআরএলডির ২২ অক্টোবরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নেপাল ৩১ আগস্ট তহবিলের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা চেয়ে চিঠি পাঠায়। এরপর পরিচালনা পর্ষদ সম্ভাব্য সহায়তার বিভিন্ন উপায় পর্যালোচনা করে। নেপালের জন্য দ্রুত অর্থায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দিতে তহবিলটি প্রচলিত আবেদন জমার সময়সীমার বাইরে একটি বিশেষ পদ্ধতি পরীক্ষামূলকভাবে চালুর সিদ্ধান্তও নিয়েছে।

তহবিলের পরিচালনা পর্ষদের সহসভাপতি কামিলা মিনেরভা রদ্রিগেজ তাভারেজ বলেন, এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে, সংকটে থাকা কোনো দেশের কথা শুনে তহবিলটি তার নিয়ম ও এখতিয়ারের মধ্যে থেকে জরুরি সাড়া দিতে পারে। তিনি নেপালের জনগণ ও সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

পর্ষদের আরেক সহসভাপতি জর্জ বোরস্টিং বলেন, নেপালের এই বিপর্যয় দেখিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের জটিলতা ও তীব্রতা বাড়ছে, যা প্রচলিত আন্তর্জাতিক সহায়তাব্যবস্থার সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এ ধরনের বিপর্যয়ে বিদ্যমান অন্যান্য অর্থায়নব্যবস্থার বাইরে থাকা ঘাটতি পূরণে এফআরএলডি ভূমিকা রাখতে পারে।

তহবিলের নির্বাহী পরিচালক ইব্রাহিমা শেখ দিওং বলেন, নেপালের জন্য এই সিদ্ধান্ত দেশটির পুনরুদ্ধারে সহায়তার পথ তৈরি করবে এবং তহবিলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।

সহায়তার তুলনায় ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেশি

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে নেপালের জন্য ২ কোটি ডলারের সম্ভাব্য সহায়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা দেশটির আনুমানিক ২৭০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতির মাত্র শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ।

নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে বলেন, বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে দেশটির অবদান খুবই সামান্য। তা সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নেপালকে অসমভাবে বহন করতে হচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য মানবিকতা, দ্রুত সহায়তা, নমনীয়তা ও আন্তর্জাতিক সংহতির ওপর গুরুত্ব দেন।

অন্যদিকে, নেপালের পার্লামেন্টের সাবেক সদস্য ও জলবায়ু আন্দোলনকর্মী রাজেন্দ্র বাজগাইন সহায়তার পরিমাণ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। দ্য টেলিগ্রাফকে তিনি বলেন, এই অর্থ ‘দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা এক টুকরো খাবারের মতো’; এটি স্বস্তি দেওয়ার বদলে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি অপমানের শামিল।

দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ তহবিলে সহায়তা চেয়ে জমা পড়া ১৭৬টি আবেদনে মোট ২৮০ কোটি ডলার চাওয়া হয়েছে। বিপরীতে, উন্নত দেশগুলো তহবিলটিতে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মাত্র ৮০ কোটি ডলার।