সদ্যবিদায়ী সেপ্টেম্বরে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টির পর চলতি অক্টোবর মাসেও দেশে বৃষ্টিপাত কম হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে পুরো মাস বৃষ্টিহীন থাকবে না। বঙ্গোপসাগরে এ মাসে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) অক্টোবর মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানিয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, মাসের প্রথমার্ধে বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে পারে। এ সময় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা ধীরে ধীরে কমে আসার পাশাপাশি বৃষ্টিহীন সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে। পাশাপাশি উত্তরের জেলাগুলোতে দেখা যাচ্ছে আগাম শীতের আবহ।
সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি কমেছে ১৭.৯ শতাংশ
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে স্বাভাবিক ৩১৯ মিলিমিটারের বিপরীতে বৃষ্টিপাত হয়েছে ২৬২ মিলিমিটার; যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১৭ দশমিক ৯ শতাংশ কম। এ মাসে স্বাভাবিকভাবে ২০ দিন বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও রেকর্ড করা হয়েছে ১৭ দিন।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে সেপ্টেম্বরের বৃষ্টিপাতে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। সিলেটে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৪ দশমিক ৩ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ, রংপুরে ৩৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ২৪ দশমিক ২ শতাংশ এবং চট্টগ্রামে ১৭ দশমিক ১ শতাংশ বৃষ্টিপাত কম হয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা বিভাগে স্বাভাবিকের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বরিশালে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের প্রায় কাছাকাছি (১ দশমিক ৬ শতাংশ কম)।
অক্টোবরেও কম বৃষ্টির পূর্বাভাস
অক্টোবরেও দেশের অধিকাংশ এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে।
ঢাকায় মাসিক স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৬০ মিলিমিটার। এ মাসে তা ১৩০ থেকে ১৬০ মিলিমিটার হতে পারে। ময়মনসিংহে স্বাভাবিক ১৮০ মিলিমিটারের বিপরীতে পূর্বাভাস রয়েছে ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার এবং চট্টগ্রামে স্বাভাবিক ২১৬ মিলিমিটারের বিপরীতে ১৯০ থেকে ২২০ মিলিমিটার।
সিলেটে স্বাভাবিক ১৮২ মিলিমিটারের বিপরীতে ১৫০ থেকে ১৮০ মিলিমিটার, রংপুরে স্বাভাবিক ১৫৫ মিলিমিটারের বিপরীতে ১২০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার এবং খুলনায় স্বাভাবিক ১৫০ মিলিমিটারের বিপরীতে ১১০ থেকে ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
তবে রাজশাহীতে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। সেখানে অক্টোবরের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ১০৪ মিলিমিটার হলেও এ মাসে ১১০ থেকে ১৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
সাগরে ২–৩টি লঘুচাপের সম্ভাবনা
দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবর মাসে বঙ্গোপসাগরে দুই থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি লঘুচাপ নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মাসের প্রথমার্ধেই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু (বর্ষা) বাংলাদেশ থেকে পর্যায়ক্রমে বিদায় নিতে পারে। ফলে বর্ষাকালের মতো ধারাবাহিক বৃষ্টির প্রবণতা থাকার সম্ভাবনা কম।
তবে মাসের মাঝামাঝি বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হলে এর প্রভাবে দেশের কিছু এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ থেকে ২০ অক্টোবরের মধ্যে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হওয়ার সামান্য সম্ভাবনা রয়েছে। এর প্রভাবে ১৭ অক্টোবরের পর সাগরের গভীর অংশ কিছুটা উত্তাল হতে পারে এবং ১৯–২০ অক্টোবর দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে।
প্রথম ১০ দিনে ভ্যাপসা গরম, বজ্রবৃষ্টিরও সম্ভাবনা
অক্টোবরের প্রথম ১০ দিনে দেশের বেশির ভাগ এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। এ সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা রোদ থাকতে পারে।
তবে চট্টগ্রাম, বরিশাল, ঢাকা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে দুপুর থেকে রাত ১২টার মধ্যে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টিহীন সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী পুরো মাসে তিন থেকে চার দিন বজ্রবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। এ কারণে বজ্রপাতের সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
১১ থেকে ২০ অক্টোবর দেশের অধিকাংশ এলাকায় আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে। তবে খুলনা, বরিশাল, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে তুলনামূলক বেশি মেঘের উপস্থিতি থাকতে পারে এবং চট্টগ্রামে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তেঁতুলিয়ায় এখনই কুয়াশা-ঠান্ডার অনুভূতি
এদিকে উত্তরাঞ্চলের তেঁতুলিয়ায় এরই মধ্যে ভোর ও রাতে কুয়াশা এবং ঠান্ডার অনুভূতি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে রাতের শেষভাগ থেকে সকাল পর্যন্ত হালকা থেকে ঘন কুয়াশা এবং ঠান্ডা বাতাস থাকতে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, অগ্রহায়ণ-পৌষ আসার আগেই সেখানে কুয়াশা ও শীতের অনুভূতি শুরু হয়েছে। তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।
সম্প্রতি তেঁতুলিয়ায় সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা তেঁতুলিয়াতেই রেকর্ড করা হয়।
মাসের দ্বিতীয়ার্ধে কমবে তাপমাত্রা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ও বিশেষজ্ঞ কমিটির চেয়ারম্যান মো. মমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অক্টোবরের দ্বিতীয়ার্ধে দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে। তবে মাসের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
নদ-নদীতে স্বাভাবিক প্রবাহের আভাস
অক্টোবরে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোতে স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে ভারী বৃষ্টিপাত হলে উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কিছু নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে দ্রুত বাড়তে পারে।