পদ্মা নদীতে নাব্য সংকটের কারণে পাবনার নাজিরগঞ্জ ও রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া নৌপথে তিন দিন ধরে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নদীতে পানির গভীরতা কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ রাখতে হয়েছে। নৌপথে ড্রেজিং শেষ করে ফেরি চলাচলের উপযোগী গভীরতা নিশ্চিত না করা পর্যন্ত সার্ভিস চালু করা সম্ভব নয়।
বিআইডব্লিউটিএ জানায়, সোমবার ১২ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে এ পথে ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদীতে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সংস্থাটির প্রকৌশল বিভাগকে ড্রেজিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা জানান, পাবনা, নাটোর, সিরাজগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলার চালকেরা সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এই নৌপথ ব্যবহার করেন। নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া পথে চলাচল করলে বিকল্প সড়কপথের তুলনায় প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরত্ব কমে।
তবে বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় তাদের দীর্ঘ বিকল্প পথে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় ও খরচ হচ্ছে।
ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, পদ্মায় নাব্য সংকট থাকা সত্ত্বেও রবিবার (১১ অক্টোবর) সকালে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চালানো হয়। একই দিন বিকেলে নিয়মিত সার্ভিস চালু করা হয়। কিন্তু চালুর প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নদীতে পানির গভীরতা আবার কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল বন্ধ করতে হয়।
এর আগে তীব্র স্রোতের কারণে ৫ অক্টোবর থেকে টানা ছয় দিন এবং ৬ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ১৬ দিন এ পথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। ঘন ঘন এ ধরনের অচলাবস্থায় যাত্রী ও পরিবহনচালকদের ভোগান্তি বাড়ছে।
বিআইডব্লিউটিএর নাজিরগঞ্জ নদীবন্দরের সহকারী বন্দর ও পরিবহন কর্মকর্তা গাজী মোতালেব বলেন, হঠাৎ নদীর পানি কমে যাওয়ায় নাব্য সংকট তীব্র হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকৌশল বিভাগ ড্রেজিং শেষ করে নৌপথ সচল না করা পর্যন্ত ফেরি চালু করা সম্ভব নয়।
নাজিরগঞ্জ ঘাটের টার্মিনাল সুপারিনটেনডেন্ট খাইরুল ইসলাম খোকন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দ্রুত ড্রেজিং শুরুর চেষ্টা করছেন। বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে, একই সঙ্গে ঘাটসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে।
বিআইডব্লিউটিএর ড্রেজিং বিভাগের প্রকৌশলী এখলাস উদ্দিন জানান, ধাওয়াপাড়া ঘাটের কাছে ড্রেজার থাকলেও নদীতে স্রোতের কারণে সেটি নির্ধারিত স্থানে নেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাদের দল নৌপথের জরিপ করছে। শুক্রবার থেকে ড্রেজিং শুরু করা সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন তারা।
উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মধ্যে যাতায়াতের দূরত্ব কমাতে ২০২৩ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কাছ থেকে নৌপথটির দায়িত্ব নেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। এরপর ‘কপোতি’ ও ‘ক্যামেলিয়া’ নামে দুটি ফেরি দিয়ে এ পথে দিনে চারবার যাত্রী ও যানবাহন পারাপার শুরু হয়।
তবে নৌপথে নিয়মিত ও টেকসই ড্রেজিং না থাকায় বারবার ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন যাত্রী ও পরিবহনচালকেরা।
(প্রতিবেদনটি স্থানীয় প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য দিয়ে তৈরি)